মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৩ মার্চ ২০১৮

বিনাতিল-৩

জাতের নামঃ

 

বিনাতিল-৩

জাতের বৈশিষ্টঃ

 

  • গাছ শাখাবিশিষ্ট এবং প্রতি গাছে প্রাথমিক শাখার সংখ্যা ২-৪টি।
  • প্রতি পাতার কক্ষে ২-৩টি ফল ধরে।
  • বীজাবরণ হালকা কালো রঙের।
  • বীজে তেলের পরিমাণ ৪৩% এবং জীবনকাল ৮৫-৮৭ দিন।

জমি ও মাটিঃ

 

বেলে দো-আঁশ বা দো-আঁশ মাটি জাতটি চাষের জন্য উপযুক্ত তবে উৎপাদন মৌসুমে পানি জমে থাকে না এ রকম জমি জাতটি চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে।

জমি তৈরিঃ

 

জমির প্রকারভেদে তিন থেকে চারটি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ভালোভাবে ঝুরঝুরে করে নিয়ে জমি সমান করে বিনাতিল-৩ এর বীজ বপন করতে হয়।

বপনের সময়ঃ

 

মার্চ মাসের প্রথম থেকে দ্বিতীয় সপ্তাহ (মধ্য ফাল্গুন থেকে ফাল্গুনের শেষ সপ্তাহ) পর্যন্ত বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। তবে খরিফ ও রবি উভয় মৌসুমে চাষ করা যায়। খরিফ মৌসুমে: মধ্য ফেব্রম্নয়ারী হতে মধ্য এপ্রিল (ফাল্গুন-চৈত্র), খরিফ মৌসুমে: মধ্য আগস্ট হতে মধ্য সেপ্টেম্বর (আশ্বিন-কার্তিক) মাসে বীজ বোপন করা যায়।

বীজের হারঃ

 

ছিটিয়ে বপনের ক্ষেত্রে হেক্টর প্রতি ৭-৮ কেজি এবং সারিতে বপন করার জন্য ৬-৭ কেজি বীজ যথেষ্ট।

বীজ শোধনঃ

 

কান্ড পঁচা রোগ দমনের জন্য বপনের পূর্বে ভিটাভেক্স অথবা বেভিষ্টিন-৫০ ডব্লিউ-পি দ্বারা (প্রতি কেজি বীজে ২.৫-৩.৫ গ্রাম) বীজ শোধন করে এ রোগের আক্রমণ  কমানো যায়। এজন্য বীজে  ভালভাবে ছত্রাকনাশক মিশ্রণ করে একটি বন্ধ পাত্রে ৪৮ ঘন্টা রাখতে হবে।

সার ও প্রয়োগ পদ্ধতিঃ

 

জমির উর্বরতার উপর নির্ভর করে সারের তাপতম্য করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সার

সুপারিশমালা অনুসরণ করতে হবে। তবে সাধারণভাবে একরে ৪০-৫০ কেজি ইউরিয়া,

৩০-৪০ কেজি টিএসপি, ২৫-৩০ কেজি এমপি ও ৩০-৪০ কেজি জিপসাম সার শেষ চাষের

সময় প্রয়োগ করা যেতে পারে। জমি প্রস্ত্ততের শেষ চাষের সময় অর্ধেক ইউরিয়া এবং

বাকি অর্ধেক ইউরিয়া বীজ বপনের ২৫-৩০ দিন পর গাছে ফুল আসার সময় ফসলে উপরি

প্রয়োগ করতে হবে। বোরণ ঘাটতি এলাকায় একর প্রতি ৩ কেজি হারে

বোরিকএসিড/সলুবর প্রয়োগ করে অধিক ফলন পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া দস্তা ঘাটতি

এলাকায় একর প্রতি ২কেজি হারে জিংক সালফেট প্রয়োগ করতে হবে।

 

সেচ ও নিস্কাশনঃ

 

তিল চাষাবাদে সেচের প্রয়োজন হয় না। বপনের সময় মাটিতে রসের অভাব থাকলে একটি

হালকা সেচ দিয়ে বীজ গজানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। বীজ বপনের ২৫-৩০ দিন

পর ফুল আসারসময় জমি শুষ্ক হলে একবার এবং ভীষণ খরা হলে ৫৫-৬০ দিন পর ফল

ধরার সময় আর একবার সেচ দিতে হবে। তিল ফসল মোটেও জলাবদ্ধতা সহ্য করতে

পারে না। তাই জমির মধ্যে কিছুদুর পর পর নালা কেটে সেচের অতিরিক্ত পানি দ্রুত

নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে ফসলকে রক্ষা করতে হবে।

আগাছা দমন এবং মালচিংঃ

 

অধিক ফলন পেতে হলে আগাছামুক্ত রাখতে হবে। চারা অবস্থায় প্রায় ২০ দিন পর্যন্ত গাছের বৃদ্ধি ধীর গতিতে হতে থাকে। ফলে এ সময় জমির আগাছা দ্রুত বেড়ে তিল গাছ ঢেকে ফেলতে পারে। তাই এ সময় একটি নিড়ানী দিতে হবে। তাছাড়া বীজ বপনের পূর্বেই জমি থেকে ভালভাবে আগাছা পরিস্কার করে নিতে হবে।

বালাই ব্যবস্থাপনাঃ

 

বিছা পোকা, হক মথ ও কান্ডপঁচা রোগ তিল ফসলের ক্ষতি করে। জমিতে কান্ডপঁচা রোগ দেখা দিলে সাথে সাথে বাজারে প্রচলিত ছত্রাকনাশক যেমন বেভিষ্টিন বা ডাইথেন এম-৪৫ দুই গ্রাম হারে বা রোভরাল এক গ্রাম হারে প্রতি লিটার পানির সাথে মিশিয়ে ৮-১০ দিন পর পর তিনবার দুপুর ২-৩ ঘটিকায় ফসলে স্প্রে করে রোগটি দমন করা যেতে পারে। বিছাপোকা ডিম পাড়ার সাথে সাথে ডিমসহ পাতা ছিড়ে কেরোসিন মিশ্রিত পানিতে বা ডিজেলে ডুবিয়ে মেরে ফেলা যেতে পারে। প্রতি লিটার পানিতে ১ মিঃলিঃ শিমবুস বা রিপকর্ড ১০ ইসি মিশিয়ে স্প্রে করেও বয়স্ক কীড়া দমন করা যেতে পারে। জলাবদ্ধতা বা অতিরিক্ত আর্দ্রতা তিল গাছের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এক্ষেত্রে দ্রুত গোড়াপঁচা রোগ হয়ে তিলগাছ মরে যায়। এজন্য তিল চাষের জমি প্রস্ত্ততের সময় পানি নিষ্কাশনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

হেক্টরপ্রতি ফলনঃ

 

হেক্টর প্রতি ১.৫১ টন

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন

তৈল ফসল বিশেষজ্ঞ

(সকাল ৯ টা-বিকাল ৫টা)

কল করুনঃ +8801712106620

ই-মেইলঃ malekbina@gmail.com

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম ও পদবী

ড. মোঃ আব্দুল মালেক

মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা

উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ

বিনা, ময়মনসিংহ-2202


Share with :

Facebook Facebook