বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৫ মার্চ ২০২০

বিনাসরিষা-৪

বিনাসরিষা-

জাতের নাম:

 

বিনাসরিষা-৪

জাতটির বিশেষ বৈশিষ্ট:

 

  • জাতটি অল্টারনারিয়াজনিত পাতা ও ফলের ঝলসানো রোগ মধ্যম প্রতিরোধী;
  • ভারী বৃষ্টিজনিত সাময়িক জলাবদ্ধতা সহনশীল;
  • মাটির অতিরিক্ত আর্দ্রতায় চাষবিহীন জমিতে বপনযোগ্য;
  • নাবিতে বপনযোগ্য;
  • ৬-৮ ডিএস/মি. মাত্রার লবণাক্ত জমিতে চাষযোগ্য।

অন্যান্য বৈশিষ্ট:

 
  • প্রাথমিক শাখার সংখ্যা ২-৪টি;
  • প্রতি গাছে ফলের সংখ্যা ৬০-৮৫টি এবং প্রতি ফলে বীজের সংখ্যা ২৪-৩২টি;
  • বীজের আকার তুলনামূলকভাবে বড় এবং ১০০০ বীজের ওজন ৩.৬০-৪.০০ গ্রাম;
  • বীজের রঙ লালচে কালো এবং বীজে তেলের পরিমাণ ৪৪% ।

জীবনকাল:

 
  • ৮৫-৮৮ দিন

সর্বোচ্চ ফলন:

 
  • ২.৪০ টন/হেক্টর (২৬ মন/একর)

গড় ফলন:

 

১.৮০ টন/হেক্টর (২০ মন/একর)

জমি ও মাটি:

 

সব ধরণের জমিতে চাষ করা যায় তবে বেলে দো-আঁশ হতে এটেল দো-আঁশ মাটিতে জাতটি ভাল জন্মে

জমি তৈরি:

 

৪-৫টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে জমি তৈরি করতে হবে। জমিতে যাতে বড় বড় ঢিলা ও আগাছা না থাকে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

বপনের সময়:

 

সাধারণত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ হতে মধ্য নভেম্বর (কার্তিকের দ্বিতীয় হতে শেষ সপ্তাহ) পর্যন্ত এ জাতের সরিষা বপন করার উপযুক্ত সময়। তবে নাবিতে বপনযোগ্য বিধায় ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ (পৌষের প্রথম সপ্তাহ) পর্যন্ত বীজ বপন করলেও সন্তোষজনক ফলন পাওয়া যায়।

বীজের হার:

 

একর প্রতি ২.৮-৩.০ কেজি বীজ ছিটিয়ে বা ২.২০-২.২৫ কেজি বীজ  ১০-১২ ইঞ্চি (২৫-৩০ সে.মি.) দূরত্বে সারিতে বপন করতে হবে।

সার ও প্রয়োগ পদ্ধতি:

 

কৃষি পরিবেশ অঞ্চলভেদে সারের মাত্রা কম-বেশি হয়। তাই সাধারণভাবে একর প্রতি ইউরিয়া ৮০-৯০ কেজি, টিএসপি ৭০-৮০ কেজি, এমওপি ৪৫-৫৫ কেজি, জিপসাম ৫০-৬০ কেজি, জিংক সালফেট ৪ কেজি এবং বরিক এসিড ৩ কেজি বা বোরাক্স সার ৫ কেজি হারে প্রয়োগ করতে হবে।  অর্ধেক পরিমাণ ইউরিয়া এবং অন্যান্য সারের সবটুকু জমি তৈরির শেষ চাষের পূর্বে প্রয়োগ করে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। বাকী অর্ধেক ইউরিয়া ফুল আসার আগে অর্থ্যাৎ বীজ বপনের ২০-২৫ দিন পর উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

সেচ ও নিস্কাশন:

 

মাটিতে রসের অভাব হলে চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পর প্রথম সেচ এবং প্রয়োজনে ফুল ফোঁটা শেষ হলে দ্বিতীয় সেচ দিতে হবে। তবে জমিতে পর্যাপ্ত রস থাকলে সেচ দেয়ার প্রয়োজন নেই।

আগাছা দমন এবং মালচিং:

 

চারা গজানোর ১৫-২০ দিনের মধ্যে একবার নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিস্কার করতে হবে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত চারা উঠিয়ে ফেলতে হবে।

বালাই ব্যবস্থাপনা:

 

বিনাসরিষা-৪ অলটারনারিয়াজনিত পাতা ও ফলের ঝলসানো রোগের প্রতি মধ্যম প্রতিরোধী। তবে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ রোগের প্রকোপ বেড়ে গেলে প্রতি লিটার পানিতে ২-৩ গ্রাম রোভরাল-৫০ ডব্লিউপি ৮-১০ দিন পর পর ৩-৪ বার স্প্রে করতে হবে। জাবপোকার আক্রমণ হলে ম্যালাথিয়ন-৫৭ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ২.০ মি.লি. হিসাবে মিশিয়ে সম্পূর্ণ গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে। 

ফসল সংগ্রহ:

 

এ জাতের সরিষা শতকরা ৭০-৮০ ভাগ ফল গাছসহ বাদামী রং ধারণ করলে কাটতে হবে, কারণ জাতটি বেশি পেকে গেলে নিচের দিকের ফল ফেটে বীজ ঝড়ে যেতে পারে।

 

 


প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন

 

তেল ফসল বিশেষজ্ঞ

(সকাল ৯ টা-বিকাল ৫টা)

কল করুনঃ +৮৮-০১৭১২১০৬৬২০

ই-মেইলঃ malekbina@gmail.com

 

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম ও পদবী

ড. মো. আব্দুল মালেক

মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা

উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ

বিনা, ময়মনসিংহ-২২০২


Share with :

Facebook Facebook