মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২২nd মার্চ ২০১৮

বিনাধান-২০

 

জাতের নামঃ

 

বিনাধান-২০

জাতের বৈশিষ্টঃ

 

 

  • জিংক সমৃদ্ধ ধান, আকাড়া চালে ২৬.৫ পিপিএম জিঙ্ক বিদ্যমান
  •  ২০-৩১ পিপিএম আয়রণ বিদ্যমান
  •  জীবনকাল-১২৫-১৩০ দিন
  •  বাদামী গাছ ফড়িং এর প্রতি মধ্যম মাত্রায় প্রতিরোধী
  •  চালের রং লালচে লম্বা ও চিকন।

জমি ও মাটিঃ

 

বেলে দো-আঁশ এবং এটেল দো-আঁশ জমি এই জাতের চাষের উপযোগী।

জমি তৈরীঃ

 

জাতটির চাষাবাদ পদ্ধতি অন্যান্য উফশী রোপা আমন জাতের মতই। 

 

বপণের সময়ঃ

 

এ ধানের জাতটির চাষাবাদ পদ্ধতি অন্যান্য উফশী আমন জাতের মতই। এজাতের বীজ অঞ্চলভেদে মধ্য জুন (আষাঢ়ের ১ম সপ্তাহ) থেকে মধ্য জুলাই (শ্রাবনের ১ম সপ্তাহ) পর্যমত্ম বীজতলায় ফেলা যাবে। বীজতলায় চারা করার পর লাইন করে চারা রোপন করতে হয়। রোপনের জন্য চারার বয়স ২৫-৩০ দিন হতে হবে। এজাতে অন্যান্য আমন জাতের মতই সারের প্রয়োজন হয়

বীজ হার ঃ

 

 প্রতি হেক্টর জমি চাষের জন্য ২৫-৩০ কেজি বা এক একর জমির জন্য ১০-১২ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়।

বীজ শোধন ঃ

 

প্রতি ১০ কেজি বীজে ২৫ গ্রাম ভিটাভ্যাক্স-২০০ বা ব্যাভিস্টিন ব্যবহার করা যেতে পারে। বীজ শোধনের জন্য মাত্রানুযায়ী ছত্রাকনাশক মিশিয়ে একটি বদ্ধ পাত্রে ৪৮ ঘন্টা রাখা আবশ্যক।

সার ও প্রয়োগ পদ্ধতিঃ

 

সার প্রয়োগ

হেক্টর প্রতি ১৯৫ কেজি ইউরিয়া, ৫০ কেজি টিএসপি, ৭০ কেজি এমওপি এবং ৫৫ কেজি জিপসাম, জিংক সালফেট ২.৭৮ কেজি

 

প্রয়োগের নিয়মঃ

রোপার জন্য জমি তৈরীর শেষ চাষের আগে সম্পূর্ণ টিএসপি এবং এমওপি জমিতে সমভাবে ছিটিয়ে চাষের মাধ্যমে মাটির সাথে ভালভাবে  মিশিয়ে দিতে হবে। ইউরিয়া সারের অর্ধেক পরিমাণ চারা রোপনের ৭-৮ দিন পর,  এবং বাকি অর্ধেক ৩০-৩৫ দিন পর জমির উর্বরতার উপর নির্ভর করে প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সার প্রয়োগের ২/১ দিন আগে জমির  অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে হবে এবং প্রয়োজন হলে আগাছা দমন করতে হবে। জমির উর্বরতা ও ফসলের অবস্থার উপর নির্ভর করে ইউরিয়া সার প্রয়োগ মাত্রার তারতম্য করা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে টিএসপি ও দসত্মা সার একই সাথে প্রয়োগ করা যাবেনা। তাই এক্ষেত্রে একচাষ পূর্বে টিএসপি প্রয়োগ করতে হবে এবং শেষ চাষের সময় ইউরিয়া ছাড়া অন্যান্য সার ছিটিয়ে প্রয়োগ করা অবশ্যক।

 

 সেচ ও নিষ্কাশনঃ

 

জমি তৈরীর সময় ২/৩ বার স্বাদু পানি দিয়ে লবণাক্ত পানি বের করে দিলে জমির লবণাক্ততা অনেকটা কমে যায়। তাছাড়া কুশি, ফুল আসা ও পরিপক্কতার সময় লবণের মাত্রা ১০ ডিএস/মিটারের বেশী হলে স্বাদু পানি দিয়ে লবণাক্ততা কমিয়ে আনতে হবে। ধান পাকার ১০-১২ দিন আগে জমির পানি শুকিয়ে ফেলা ভাল।

আগাছা দমন ও মালচিংঃ

 

চারা রোপনের পর আগাছা দেখা দিলে নিড়ানী বা হাতের সাহায্যে আগাছা পরিষ্কার এবং মাটি নরম করে মালচিং করতে হবে ।

বালাই ব্যবস্থাপনাঃ

 

 এ জাতটিতে পাতা পোড়া ও খোল পঁচা ইত্যাদি রোগের আক্রমণ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি। এছাড়া এ জাতটি বাদামী গাছ ফড়িং এর প্রতি মধ্যম প্রতিরমতাসম্পন্ন। এছাড়াও প্রায় সব ধরনের পোকার আক্রমণ মোটামুটি ভালভাবে প্রতিরোধ করতে পারে।

 

হেক্টর প্র্তি ফলন

:ঃ

উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিচর্যায় বিনাধান-২০ এর ফলন হয় হেক্টর প্রতি সর্বোচ্চ ৭.১৮ টন  ও গড়ে ৪.৪৮ টন/হে. ।

 

                                                     চিত্র: বিনাধান-২০ এর মাঠ

  চিত্র:  খোসা ছাড়ানো জিংক ও আয়রণ সমৃদ্ধ বিনাধান-২০

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন

ধান ফসল বিশেষজ্ঞ

(সকাল ৯ টা-বিকাল ৫টা)

কল করুনঃ +8801710763003

ই-মেইলঃ makazad.pbdbina@yahoo.com

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম ও পদবী

ড. মোঃ আবুল কালাম আজাদ

মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা

উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ, বিনা, ময়মনসিংহ-2202


Share with :

Facebook Facebook