মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৪ অক্টোবর ২০১৮

মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের গবেষণা অর্জন

১। সার সুপারিশমালা গাইড তৈরীতে অবদান: বিএআরসি-এর সমন্বয়ে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অন্তর বাংলাদেশের বিভিন্ন শস্য পরিক্রমার জন্য সার সুপারিশমালা তৈরীর কাজে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ অবদান রাখছে। উক্ত সার সুপারিশমালা গাইডটি ফসল উৎপাদন ও মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনার কাজে এ দেশের কৃষক ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মীগণ ব্যবহার করে থাকেন।

২। উপজেলা মৃত্তিকা ব্যবহার নির্দেশিকা তৈরীতে অবদান: বিনা’র মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ NARS ভূক্ত প্রতিষ্ঠানের সাথে SRDI প্রণীত উপজেলা মৃত্তিকা ব্যবহার নির্দেশিকা তৈরীর জন্য  মৃত্তিকা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষনে/সরবরাহে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করে।

৩। মৃত্তিকা যাদুঘর: মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে একটি মৃত্তিকা যাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিনিধিত্বশীল গুরূত্বপূর্ণ ২৮টি মৃত্তিকা মনোলিথ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক ও গবেষকবৃন্দ এই মৃত্তিকা যাদুঘর পরিদর্শন করে থাকে।

৪। বিভিন্ন ফসলের জন্য ফসফরাস সালফারের ক্রিটিক্যাল লিমিট (ক্রান্তিমান) নির্ধারণঃ কোন শস্যের জন্য কোন একটি পুষ্টি উপাদানের ক্রিটিক্যাল লিমিট এমন একটি মাত্রা যার নীচে থাকলে উক্ত পুষ্টি উপাদানের প্রয়োগের ফলে অর্থনৈতিকভাবে সাড়া পাওয়া যাবে। এটি মাটি, শস্য ও নির্ণয় পদ্ধতির উপর নির্ভর করে। এ বিভাগ বেশ কিছু গুরূত্বপূর্ণ ফসলের জন্য ফসফরাসের ক্রিটিক্যাল লিমিট নির্ণয় করেছে যেমন- গম (বলাকা)- ১৫পিপিএম , মুগডাল (বিনামুগ-১)-১৩ পিপিএম, পাট (বিনাদেশীপাট-২)-১৫পিপিএম, মসুর (বিনা মসুর ১)-১২ পিপিএম, ছোলা (বিনা ছোলা -২)-১৪ পিপিএম, চীনাবাদাম (বিনা চীনাবাদাম -১ও ২)-১২ও১০ পিপিএম,সরিষা (বিনা সরিষা-৩ও৪)-১১ পিপিএম এবং তিল (বিনাতিল-১) ১৪.৫ পিপিএম। বিভিন্ন ফসলে সালফারের ক্রিটিক্যাল লিমিট হলো- সরিষা (বিনাসরিষা ৩ ও ৪)-১৫ পিপিএম, ধান (বিনাধান-৬)-১২ এবং তিল (বিনাতিল -১)-১৮ পিপিএম।

৫। ধানের খরের কিয়দংশ মাঠে পরিত্যাগের মাধ্যমে পটাশ সারের ব্যবস্থাপনাঃ ধান-ধান শস্য বিন্যাসে পূর্ববর্তী ধানের খড়ের অবশিষ্টাংশ পরবর্তী ধান আবাদের সময়ে (২০-২৫ সে.মি. দণ্ডায়মান খড় মাঠে রাখলে যা শুকনা অবস্থায় প্রতি হেক্টরে ১.৫-২.৫ টন -যা ৩০-৪০ কেজি পটাশিয়াম যোগ করে) যোগ করা হলে তা থেকে ২৫% পটাশিয়াম সার সরবরাহ হয় এবং মাটি থেকে পটাশিয়াম অপসারন হ্রাস পায়।

৬। জৈব কার্বনের মজুদ নির্ধারণ বিভিন্ন কৃষি পরিবেশ অঞ্চলের মৃত্তিকায়  (০-২০ সে.মি. গভীরতা পর্যন্ত) যেমন কৃষি পরিবেশ অঞ্চল ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯ এবং ২০ তে যথাক্রমে ১.১৮, ০.৭১, ১.৪, ০.২২, ০.০১, ০.১১, .০৭, ০.৪৮, ০.৬৭ এবং ০.৪০ মিলিয়ন টন  জৈব কার্বনের মজুদ নির্ধারণ করা হয়েছে।

৭। রাসায়নিক বিশ্লেষণে সেবা দান মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ কৃষক, ছাত্র, সরকারী ও বেসরকারী সংস্থা থেকে প্রেরিত মৃত্তিকা, উদ্ভিদ, পানি ও ভেজাল সারের নমুনা রাসায়নিক বিশ্লেষণে সহায়তা প্রদান করে থাকে।

    ৮।  প্রধান প্রধান শস্য পরিক্রমায় সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থাপনা

ক) বোরো-সবুজ সার - রোপা আমন শস্য পরিক্রমা

প্রয়োগ স্থান সেচের আওতাধীন ধান উৎপাদনের এলাকাসমূহ যেমন বৃহত্তর ময়মনসিংহ, কুমিল্লা এবং চট্টগ্রামের কিছু   অংশ।

বৈশিষ্ট্যঃসুষম পুষ্টি উপাদান প্রয়োগে ধানের অব্যাহত উচ্চ ফলন অর্জন ও মৃত্তিকার পুষ্টিমান সংরক্ষণ। অর্থনৈতিক দিক থেকে প্রযুক্তিটি লাভজনক এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সুষম পুষ্টি প্রয়োগে সার সুপারিশ ও ফলন লক্ষ্যমাত্রা (হেক্টর প্রতি)

শস্য পরিক্রমা

ইউরিয়া

টিএসপি

এমওপি

জিপসাম

জিংক সালফেট

বোরাক্স

সবুজ সার

ফলন

 

কেজি

টন

টন

বোরো (উফশী)

৩১৫

১৭৫

১৩৪

১১০

১১

৯.৫

-

৭.০

সবুজ সার

-

-

-

-

-

-

৫.৬

-

রোপা আমন (উফশী)

১১৫

৮৫

৬৮

৫৫

-

-

-

৫.৫

খ) গম-রোপা আউশ-রোপা আমন শস্য পরিক্রমা

প্রয়োগ স্থানঃ রংপুর, বগুড়া, দিনাজপুর, পাবনা, রাজশাহী, ফরিদপুর ও যশোহর জেলাসমূহ।

বৈশিষ্ট্যঃসমন্বিত ও সুষম পুষ্টি উপাদান প্রয়োগের মাধ্যমে শস্যের অব্যাহত সংরক্ষণ।  অর্থনৈতিক দিক থেকে প্রযুক্তিটি লাভজনক এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সমর্থ।

সুষম পুষ্টি প্রয়োগে সার সুপারিশ ও ফলন লক্ষ্যমাত্রা (হেক্টর প্রতি)

শস্য পরিক্রমা

ইউরিয়া

টিএসপি

এমওপি

জিপসাম

জিংক সালফেট

বোরাক্স

সবুজ সার

ফলন

 

কেজি

টন

টন

গম (উফশী)

২১৭

৮৫

১০০

১১০

১১

১৯

৩.৮

রোপা আউশ

১৫২

৪৫

৩৪

৫৫

-

-

-

৪.৫

রোপা আমন (উফশী)

১৫২

৪৫

৩৪

৫৫

-

-

-

৫.২

বোরন Solubor যা বোরাক্স নামে বাজারে পাওয়া যায়, যার দাম কেজি প্রতি মাত্র ৬০ টাকা।  পরিমাণে অত্যন্ত কম লাগে বিধায় এর ব্যবহার অর্থনৈতিক দিক দিয়ে লাভজনক।

 

গ) সরিষা-বোরো-রোপা আমন শস্য পরিক্রমা

প্রয়োগ স্থানঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, জামালপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, যশোহর, পাবনা, বগুড়া ও দিনাজপুর জেলাসমূহ।

বৈশিষ্ট্যঃ সমন্বিত ও সুষম পুষ্টি প্রয়োগে শস্যের অব্যাহত উচ্চ ফলন অর্জন ও মৃত্তিকার পুষ্টিমান সংরক্ষণ।  অর্থনৈতিক দিক থেকে প্রযুক্তিটি লাভজনক এবং এটি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সমর্থ।

সুষম পুষ্টি প্রয়োগে সার সুপারিশ ও ফলন লক্ষ্যমাত্রা (হেক্টর প্রতি)

শস্য পরিক্রমা

ইউরিয়া

টিএসপি

এমওপি

জিপসাম

জিংক সালফেট

বোরাক্স

সবুজ সার

ফলন

 

কেজি

টন

টন

সরিষা (উফশী)

২৬০

১৭৫

১৩৪

১১০

১১

১৯

১.৫

রোপা আউশ

২১৭

৮৫

৬৮

৫৫

-

-

-

৫.৮

রোপা আমন (উফশী)

১৭৪

৪৫

৩৪

৫৫

-

-

-

৫.৮

ঘ) সরিষা- বোরো-রোপাআমন শস্য পরিক্রমা

প্রয়োগ স্থানঃ কুমিল্লা (কৃষি পরিবেশ অঞ্চল-১৯)

বৈশিষ্ট্যঃ সমন্বিত ও সুষম পুষ্টি উপাদান প্রয়োগের মাধ্যমে ফসলের উচ্চফলন অব্যাহত রাখা সম্ভব, এছাড়াও মৃত্তিকার  উর্বরতা বজায় থাকবে। অর্থনৈতিক দিক থেকে প্রযুক্তিটি লাভজনক।

সুষম পুষ্টি প্রয়োগে সার সুপারিশ ও ফলন লক্ষ্যমাত্রা (হেক্টর প্রতি)

শস্য পরিক্রমা

ইউরিয়া

টিএসপি

এমওপি

জিপসাম

জিংক সালফেট

বোরাক্স

সবুজ সার

ফলন

 

কেজি

টন

টন

সরিষা

২১৭

১২৫

৬০

১১০

১২

৯.০

৫.০

১.৫-১.৮

বোরো

৩২৫

৬৫

৭০

৫৬

-

-

-

৬.০-৬.৫

রোপা আমন

২২৮

৪০

৪৬

৫৬

-

-

-

৪.৫-৫.০

ঙ) গম-ডালফসল- রোপা আমন শস্য পরিক্রমা

প্রয়োগ স্থানঃ দিনাজপুর (কৃষি পরিবেশ অঞ্চল-১)

বৈশিষ্ট্যঃ সমন্বিত ও সুষম পুষ্টি উপাদান প্রয়োগের মাধ্যমে ফসলের উচ্চফলন অব্যাহত রাখা সম্ভব, এছাড়াও মৃত্তিকার             উর্বরতা বজায় থাকবে। অর্থনৈতিক দিক থেকে প্রযুক্তিটি লাভজনক।

সুষম পুষ্টি প্রয়োগে সার সুপারিশ ও ফলন লক্ষ্যমাত্রা (হেক্টর প্রতি)

শস্য পরিক্রমা

ইউরিয়া

টিএসপি

এমওপি

জিপসাম

জিংক সালফেট

ম্যাগনেসিয়াম

জৈব সার

জীবাণু সার

ফলন

 

কেজি

টন

কেজি

টন

গম

২১৭

১২৫

১৭০

১৩৯

২২

১৮

গোবর সার ৫.০

-

৩.৫-৪.৫

মুগডাল

-

৬০

২৪

২৮

-

-

-

১.৫

১.২-১.৫

রোপা আমন

১৬৩

৫০

৭০

২৮

-

-

মুগবীন ফসলের অবশিষ্টাংশ

-

৪.০-৫.০

চ) ডাল ফসল-পাট- রোপা আমন শস্য পরিক্রমা

প্রয়োগ স্থানঃ মাগুরা (কৃষি পরিবেশ অঞ্চল-১১)

বৈশিষ্ট্যঃ সমন্বিত ও সুষম পুষ্টি উপাদান প্রয়োগের মাধ্যমে ফসলের উচ্চফলন অব্যাহত রাখা সম্ভব, এছাড়াও মৃত্তিকার  উর্বরতা বজায় থাকবে। অর্থনৈতিক দিক থেকে প্রযুক্তিটি লাভজনক।

সুষম পুষ্টি প্রয়োগে সার সুপারিশ ও ফলন লক্ষ্যমাত্রা (হেক্টর প্রতি)

শস্য পরিক্রমা

ইউরিয়া

টিএসপি

এমওপি

জিপসাম

জিংক সালফেট

মলিবডেনাম

জৈব সার

জীবাণু সার

ফলন

 

কেজি

টন

কেজি

টন

মসুর

-

১২৫

৮৩

১৮

-

১.৫

৩.৫-৪.৫

পাট

১৮৪

৪০

-

-

-

গোবর সার ৫.০

-

১.২-১.৫

রোপা আমন

১৮৪

৮০

৫৬

-

-

-

গোবর সার ৫.০

-

৪.০-৫.০

 

৯। ধান ভিত্তিক শস্য পরিক্রমায় ফসফেট সারের ব্যবস্থাপনাঃ

প্রয়োগের স্থানঃ ধান উৎপাদন করা হয় এমন সকল ভূমি।

বৈশিষ্ট্যঃঅব্যাহত শস্য উৎপাদনে ফসফেট সারের পরিমিত প্রয়োগের মাধ্যমে এর প্রয়োগ শতকরা ৫০ ভাগ পয©ন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

প্রয়োগ পদ্ধতি ও নির্দেশনা

অম্ল থেকে নিরপেক্ষ সকল জমিতে সুপারিশকৃত ফসফেট সার শস্য পরিক্রমায় শুধু রবি শস্যে প্রয়োগ করতে হবে এবং খরিফ শস্যে ধানের চাষ করা হলে কোন ফসফেট সার প্রয়োগের প্রয়োজন হবে না। তবে অধিক অম্লীয় ও ক্ষারীয় জমিতে খরিফ শস্যে সুপারিশকৃত সারের অর্ধেক পরিমাণ প্রয়োগ করতে হবে।

১০। ধান চাষে নাইট্রোজেন সারের ব্যবস্থাপনা

প্রয়োগ স্থানঃ ধান চাষের উপযোগী বাংলাদেশের সকল আর্দ্রভূমি।

বৈশিষ্ট্যঃ

  • নাইট্রোজেন সারের কার্যদক্ষতা বৃদ্ধি।
  • নাইট্রোজেন সারের অপচয় রোধ।
  • সমপরিমাণ ফলনের জন্য নাইট্রোজেন সারের প্রয়োগ অর্ধেক পরিমাণ কমিয়ে আনা।
  • নাইট্রেট দ্বারা পরিবেশ দূষণ রোধ।

প্রয়োগ পদ্ধতি ও নির্দেশনা

  • বড় দানা ইউরিয়া মৃত্তিকার প্রায় ১০ সেমি গভীরে রোপণের ৮-১২ দিন পর একবারে প্রয়োগ করতে হবে।
  • উপরের পদ্ধতি সম্ভব না হলে ধানের জমিতে তিন কিস্তিতে নাইট্রোজেন সার প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম কিস্তি শেষ চাষের আগেই নিষ্কাশিত কর্দমাক্ত জমিতে প্রয়োগ করতে হবে।  দ্বিতীয় ও তৃতীয় কিস্তি দ্রুত কুশি বেরোনের সময় ও কাঁচা থোর বের হওয়ার (পি আই) সময় নিষ্কাশিত জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। দ্বিতীয় কিস্তি প্রয়োগের সময় সার মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। উভয় ক্ষেত্রে ১/২ দিন পর সেচ দিতে হবে।

 

১১। পটাশ সারের ব্যবস্থাপনা

(ক) প্রয়োগ স্থানঃ ময়মনসিংহ (কৃষি পরিবেশ অঞ্চল-৯) এবং বগুড়া (কৃষি পরিবেশ অঞ্চল-২৫)।

বৈশিষ্ট্যঃ বোরো এবং আমন ধান চাষে বিভিন্ন মাত্রার পটাশ সার প্রয়োগ করে crop response curveথেকে দেখা যায় যে, ময়মনসিংহ (কৃষি পরিবেশ অঞ্চল-৯) এ বোরো এবং আমন ফসলে পটাশের কাম্য মাত্রা optimum dose হল ৫৩ ও ৪৪ কেজি/হেক্টর।  অন্যদিকে বগুড়া (কৃষি পরিবেশ অঞ্চল-২৫) এ এর কাম্য মাত্রা (optimum dose) হল যথাক্রমে ৬৫ ও ৫৪ কেজি/হেক্টর।

(খ) প্রয়োগ স্থানঃ কাউনিয়া, রংপুর (কৃষি পরিবেশ অঞ্চল-৩)।

বৈশিষ্ট্যঃ আলু ফসলে ৯৬ কেজি/হেক্টর পটাশ সার ব্যবহারে সর্বোচ্চ ফলন অর্জন সম্ভব, যাতে কৃষকের ব্যবহৃত পটাশ সারের মাত্রা থেকে ৩০% কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।  এতে উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কৃষক অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।

১২। সালফার ও জিংক সার ব্যবস্থাপনা

প্রয়োগ স্থানঃ রংপুর (কৃষি পরিবেশ অঞ্চল-৩)

বৈশিষ্ট্যঃ আলু-বোরো-আমন শস্যবিন্যাসের প্রথম ফসলে ১০০% সালফার ও জিংক সার ব্যবহার করলে পরবর্তী ফসলগুলিতে অনুমোদিত মাত্রা (recommended dose) এর ৫০% সালফার ব্যবহার করলেই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে।

 

১৩। নাইট্রোজেন সার মাত্রা

প্রয়োগ স্থানঃ ঈশ্বরদী (উঁচু ও মাঝারি উঁচু এলাকা : কৃষি পরিবেশ অঞ্চল-১১)

প্রয়োগ পদ্ধতি ও নির্দেশনা

  • দু’টি দানা জাতীয় ফসলের মধ্যবর্তী সময়ে/মাঝখানে একটি মুগ ফসল চাষ করে ফসলের অবশিষ্টাংশ মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে আমন ফসলে নাইট্রোজেন সারের অনুমোদিত মাত্রার (recommended dose) এক তৃতীয়াংশ প্রয়োগ কমিয়ে আনা সম্ভব।

১৪। লবণাক্ত জমিতে গম চাষ

প্রয়োগ স্থানঃ সাতক্ষীরা ও একই রকম অঞ্চলের লবণাক্ত জমি।

বৈশিষ্ট্যঃ শুকনো শীতকালীন মৌসুমে সমুদ্র তীরবর্তী বিশাল এলাকায় লবণাক্ততার কারণে কোন ফসল হয় না। কিন্তু গবেষণায় পরিলক্ষিত হয়েছে যে, ঐ ধরনের এলাকায় রোপা আমন ধান কাটার পর পরই জমিতে জো আসার সাথে সাথে জমি তৈরি করে গমবীজ বপন করা হলে এর উপরিভাগের মাটি অতি তাড়াতাড়ি শুকিয়ে পানিশূন্য হয়ে যায়। তাই জমি মোটামুটি আর্দ্র থাকা অবস্থায় গম বীজ গজানোর ব্যবস্থা করতে হবে। বীজের শিকড় মাটির একটু গভীরে প্রবেশ করলে গম চারার বৃদ্ধিতে আর অসুবিধা হবে না। পরবর্তীতে নিকটবর্তী যে কোন উৎস হতে দু-একবার পানি সেচ দিতে হবে। স্বাভাবিক নিয়মেই নিড়ানি দিতে হবে। গম পাকার সাথে সাথে কাটতে হবে।

লাভ-খরচঃ লবণাক্ত জমিতে শীতকালীন ফসল উৎপাদন তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল হলেও জমি পতিত না রেখে উপরিউক্ত পদ্ধতিতে গম চাষ লাভজনক হবে। এতে লবণাক্ত এলাকায় চাষের নিবিড়তা বৃদ্ধি পাবে এবং লবণাক্ত জমির জৈবিক উন্নতি হবে।

১৫। মাটিতে দস্তার প্রয়োজনীয়তা নির্ণয়

বাংলাদেশের মাটিতে দস্তা সারের অভাব সর্বপ্রথম বিনা থেকেই শনাক্ত করা হয় এবং জিংক ৬৫ রেডিও আইসোটোপ ব্যবহারের মাধ্যমে দস্তা ঘাটতি এলাকায়, বিশেষ করে উচ্চ ফলনশীল ধানের জমিতে প্রতি হেক্টরে ৫ কেজি দস্তা প্রয়োগের সুপারিশ করা হয়, যা এখন আংশিক সংশোধিত আকারে সারা দেশে প্রচলিত। এই ইনস্টিটিউটের গবেষণালব্ধ ফলাফল ১৯৮৯ সনের জাতীয় সার প্রয়োগের সুপারিশমালা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে, যা আঞ্চলিক ও জেলা কারিগরি কমিটির প্রশিক্ষণ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়াও থানা সার প্রয়োগ নির্দেশিকা তৈরিতেও ইনস্টিটিউটের গবেষণালব্ধ ফলাফল ব্যবহৃত হয়েছে।

১৬।   মাটির স্বাস্থ্য সেবা কার্ড সার্ভিস

নির্দিষ্ট অঞ্চলের মাটির গুণাগুণ বিশ্লেষণ ও সার ব্যবহার সংক্রান্ত সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে বিনা’র উদ্যোগে ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার দু’টি উপজেলার চাষীদের জন্য মাটির স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হয়। এই সেবার লক্ষ্য হলো- মাটির উর্বরা শক্তি অক্ষুণ রেখে সর্বোচ্চ ফলন আহরণ এবং আবাদি কৃষি জমির ক্ষয়রোধ, যা রাসায়নিক সারের অবিবেচনাপ্রসূত ব্যবহারের ফলে অহরহ ঘটে থাকে। 

১৭।   ফসল উৎপাদনে পয়োঃনিষ্কাশিত আবর্জনা (Sewage sludges)-এর ব্যবহার

পায়োনিষ্কাশিত আবর্জনায় রেডিয়েশন প্রয়োগ করে ফসল চাষে ব্যবহার করা হলে তা শুধু রাসায়নিক সারের ব্যবহারকেই হ্রাস করে না, সেই সাথে আবাদি জমির জৈব উপাদানকে অধিকতর সমৃদ্ধ করে, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে এবং পরিবেশ সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে থাকে। হেক্টরে ১০০ কেজি ইউরিয়া ব্যবহার করে যে ফলন হয়, তা হেক্টর প্রতি ৪০০ কেজি পায়োবর্জ্যরে প্রয়োগ থেকে সেই একই পরিমাণের ফলন পাওয়া যায়। এভাবে ফসলের ফলন অনেক বেড়ে যায়।

১৮।   নাইট্রোজেন সার হ্রাসে ইউরিয়ার সুপার গ্র্যানিউল

বিনা’র বিজ্ঞানীবৃন্দ বেশ কয়েক বছর আগে গবেষণা করে প্রমাণ করেন যে, ইউরিয়া সুপার গ্র্যানিউল ধান ক্ষেতের জমির ৮-১২ সেমি গভীরে প্রয়োগ করা হলে ইউরিয়া সারের ২৫% সাশ্রয় হয়। এই প্রযুক্তি বর্তমানে ‘গুটি ইউরিয়া’ নামে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

১৯। এগ্রোফরেস্ট্রি সিষ্টেমের জন্য অধিক নাইট্রোজেন ফিক্রেশন ক্ষমতা সম্পন্ন বৃক্ষ নির্বাচন

বাংলাদেশের কিছু শীম জাতীয় বৃক্ষ যেমন রেইনট্রি, শিশু, আকাশমনি, তেঁতুল, কৃঞ্চচূড়ায় 15N isotop ব্যবহার করে তাদের বায়ুমন্ডলীয় নাইট্রোজেন ফিক্সেশন ক্ষমতা নির্ণয় করা হয়। রেইনট্রি, শিশু, আকাশমনি উল্লেখযোগ্য পরিমানে বায়ুমন্ডলীয় নাইট্রোজেন ফিক্সেশন করতে পারে। এর মধ্যে রেইনটি সবচেয়ে বেশি পরিমান সর্বোচ্চ ৬৬% পর্যন্ত  বায়ুমন্ডলীয় নাইট্রোজেন ফিক্সেশন করতে পারে। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য এ সমস্ত বৃক্ষ এগ্রোফরেস্ট্রি সিষ্টেমে রোপন করা যেতে পারে।

২০।  রোপা আমন ধানে জৈব পদার্থ হিসেবে রেইনট্রি ও শিশু গাছের পাতা ব্যবহার

ময়মনসিংহে রেইনট্রি ও শিশু গাছের পাতা থেকে ৮০ কেজি নাইট্রোজেন/হে. সমতুল্য পাতা (Leaf litter) প্রয়োগ করে এবং 15N isotop ব্যবহার করে দেখা গেছে যে রেইনট্রি পাতা থেকে ৫৫% এবং শিশু’র পাতা থেকে ৪৯% নাইট্রোজেন আমন ধান আহরন করতে পারে। এই দুইটি গাছের পাতা নাইট্রোজেন সার ও জৈব পদার্থের জন্য ফসল উৎপাদনে ব্যবহার করা যেতে পারে।

২১। সারের মাত্রা নির্ধারণে সয়েল টেস্টিং কীটের ব্যবহারঃ

ধান চাষের ক্ষেত্রে সয়েল টেস্টিং কীট দ্বারা নির্ণীত সারের মাত্রার চেয়ে ৫০% ইউরিয়া সার বেশী প্রয়োগ করলে অনুমোদিত মাত্রার ইউরিয়া সার প্রয়োগে প্রাপ্ত ফলনের সমান ফলন পাওয়া যায়।

২২। স্বল্প কর্ষণে গম চাষঃ

শস্য সংগ্রহের পূর্বে অথবা পরে দুইটি ধানের সারির মাঝখানে লাঙল দিয়ে ফারো করে বীজ বপন করতে হবে। এটি পরপর দুইটি শস্য চাষের মধ্যবর্তী সময় কমিয়ে দেয় এবং অবশিষ্ট মৃত্তিকার আর্দ্রতায় গম জন্মাতে পারে। এভাবে আবাদের খরচ কমে যায়।

২৩। মুগ সরিষার উচ্চ ফলনে গৌণ খাদ্য উপাদানের ব্যবহারঃ

ময়মনসিংহ ও জামালপুর এলাকার গাঢ় ধূসর পাললিক ভূমির জন্য যেখানে গৌণ উপাদানের ঘাটতি রয়েছে সেখানে এই ব্যবস্থাপনা কৌশল সুপারিশ করা হয়েছে।

২৪। টিএসপি-এর পরিবর্তে প্রেস মাড-এর ব্যবহারঃ

ধান এবং আখ চাষাবাদের জমি তৈরির সময় পচনকৃত প্রেস মাড ১২০০ কেজি/হেক্টর হারে ব্যবহার করলে খরচ বাঁচায় এবং একই সাথে ফসফরাস সার জমিতে প্রয়োগ হয়ে যায়।

২৫। মাটির উর্বরতা এবং ভূমির ক্ষয় নির্ধারণঃ

বিভিন্ন কৃষি পরিবেশ অঞ্চলের মৃত্তিকা বৈশিষ্টের মূল্যায়ন দেখায় সুনির্দিষ্ট ক্ষয় মাটির পলি ও কর্দম অংশে মাটির পিএইচ, জৈব কার্বন, সম্পূর্ণ নাইট্রোজেন, ফসফরাস এবং সালফারের সহজলভ্যতা, বিনিময়যোগ্য ক্যাটায়নের পরিমাণ (ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও সোডিয়াম) ইত্যাদি। এ সকল কৃষি পরিবেশ অঞ্চল হলো- ১, ৩, ৮, ৯, ১১, ১২, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২২ এবং ২৩-এ সকল অঞ্চলে মাটির অম্লতা বৃদ্ধি ও উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান হ্রাস চিহ্নিত করা হয়েছে।

২৬। পারমানিক কৌশল ব্যবহার কের রেফারেন্স মান এবং মাটির ক্ষয় মূল্যায়নঃ

খাগড়াছড়িতে 137Cs-এর গড় স্থানীয় রেফারেন্স মান ৯৪৬.৪ বেকারেল/বর্গমিটার পাওয়া যায়। এখানে 137Cs, 210Pb, 226Ra এবং 210Pbex-এর মান মাটির গভীরতা বাড়ার সাথে সাথে হ্রাস পায়। মাটির ক্ষয়ের ফলে মৃত্তিকা শ্বসন ১২-৩৪% হ্রাস পেয়েছে এবং ৮-৫৩% বৃদ্ধি পেয়েছে। মাটির জৈব কার্বন, মাটির তাপমাত্রা এবং মাটির আর্দ্রতা মৃত্তিকা শ্বসন মূল নিয়ন্ত্রণকারী উপাদান।

২৭। মাটিতে আর্সেনিকের পরিমাণ নির্ধারণঃ

কৃষি পরিবেশ অঞ্চল- ১, ৩, ৮, ৯, ১১, ১২, ১৩, ২৭ এবং ২৮-এর মাটিতে আর্সেনিকের পরিমাণের সুস্পষ্ট পার্থক্য নির্ণীত হয়েছে। গঙ্গাবাহিত পলিমাটি অঞ্চল ব্যতীত অন্য কোন অঞ্চলে এলাকা ভিত্তিক আর্সেনিকের পার্থক্য পাওয়া যায়নি।

২৮। জীবাণু সার

ক) ফসফেটিক জীবাণু সার

গম ফসলে ফসফেটিক জীবাণুসারের প্রভাব পাবনা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহের অন-ফার্ম মাঠ পরীক্ষায় জানা গেছে যে, সুপারিশকৃত অর্ধমাত্রা টিএসপির সাথে ফসফরাস দ্রবীভূতকারী জীবাণুসার (১.৫ কেজি/হেক্টর) প্রয়োগ করলে পুরোমাত্রা টিএসপির সমতুল্য ফলন পাওয়া যায়। বীজের সাথে ফসফেটিক জীবাণুসার ব্যবহার করতে হয়। ফসফেটিক জীবাণুসার ব্যবহারে টিএসপির পরিমাণ অর্ধেক কম লাগায় কৃষক অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং সারটি পরিবেশ বান্ধব।

মাগুরা ও ঈশ্বরদী অঞ্চলের মৃত্তিকায় ফসফেটিক জীবাণু সার ব্যবহারের মাধ্যমে মসুর, ছোলা এবং বোরো ধান চাষে ৫০% টিএসপি সার সাশ্রয় করা যায় এবং এত উক্ত ফসলসমূহের ফলন পূর্ণমাত্রার টিএসপি সারের সমতুল্য পাওয়া যায়।

দুইটি ফসফেট দ্রবীভূতকরণ ব্যাকটেরিয়া ইনোকুলাম হিসেবে ব্যবহারের জন্য তাদের বাহক দ্রব্য নির্বাচনের জন্য ৬টি বাহক দ্রব্যের উপর ১ বছর মেয়াদী স্বাভাবিক কক্ষ তাপমাত্রায় এবং এয়ার কন্ডিশন তাপমাত্রায় পরীক্ষা চালানো হয়। এই দুইটি ব্যাকটেরিয়া এবং তাদের মিশ্রণ পীট মাটিতে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ২৭০ দিন পর্যন্ত এবং এয়ার কন্ডিশন অবস্থায় ১ বছর পর্যন্ত ব্যবহার উপযোগী মান (>১০° সেল/গ্রাঃ বাহক) বজায় রাখতে পারে। তাছাড়াও শুধু পীট মাটির বিকল্প হিসেবে পীট মাটির সাথে পুকুরের অবদ্রব্য কিংবা প্রেসমাড ১:১ অনুপাতেও উক্ত ফসফেট দ্রবীভূতকরণ ব্যাকটেরিয়ার উত্তম বাহক হিসেবেও ব্যবহার উপযোগী।

খ) রাইজোবিয়াম জীবাণু সার

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত রাইজোবিয়াম জীবাণুসার (রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া, যা পিট মাটিতে মেশানো) কৃষকের মাঝে সরবরাহ করা হচেছ। জীবাণুসার ব্যবহারের ফলে ৭টি ডাল ও শিম জাতীয় শস্যের (যথা মসুর, ছোলা, মুগ, বরবটি, ধৈঞ্চা, চীনাবাদাম, সয়াবিন ইত্যাদির) শিকড়ে তুলনামূলকভাবে বেশি গুটি (নডিউল) হয় এবং ফলন সয়াবিনে ৭৫-১৫০% এবং অন্যান্য ডাল ও শিম জাতীয় শস্যে ২০-৪৫% বেশি পাওয়া যায়। এ ছাড়া ধৈঞ্চা গাছে অধিক সংখ্যক গুটি তৈরির জন্যও বিনা’য় আরো একটি জীবাণুসার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। উদ্ভাবিত রাইজোবিয়াম জীবাণুসারের তালিকা নিম্নরূপ ঃ

১.মসুরের জন্য জীবাণু সার  বিনা এলটি-১৮

মসুর ডাল চাষের জন্য এই রাইজোবিয়াম জীবাণুসার উদ্ভাবন করা হয়েছে। এই জীবাণুসার প্রয়োগ করলে মসুরের উৎপাদন ১৫-৪০% বৃদ্ধি পায়।

২. ছোলার জন্য জীবাণু সার  বিনা সিপি-২

এই মেসোরাইজোবিয়াম জীবাণুসার ছোলা চাষের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই জীবাণুসার ছোলার উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে (২৫-৩০%) বাড়াতে পারে।

৩. মুগের জন্য জীবাণু সার বিনা এমবি-১

এটি একটি ব্র্যাডিরাইজোবিয়াম ইনোক্যুল্যান্ট, যা মুগডাল চাষে ব্যবহার করা হয়। এটি ব্যবহারে এই ফসলের ফলন ১৮-৩০% বাড়তে পারে।

৪. বরবটির জন্য জীবাণু সার বিনা সিওপি-৭

বরবটি চাষের জন্য এই জীবাণুসার উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর ব্যবহারে এই ফসলের ফলন ২৫-৪৫% বৃদ্ধি লাভ করে। 

৫. চীনাবাদামের জন্য জীবাণু সার বিনা জিএন-২

এই জীবাণুসার চীনাবাদাম চাষের জন্য তৈরিকৃত ও সুপারিশকৃত।  এর ব্যবহারের ফলে চীনাবাদামের ফলন ২০-৪০% বেড়ে যায়।

৬. সয়াবিনের জন্য জীবাণু সার বিনা এসবি-৪

সয়াবিন চাষের জন্য এই শক্তিশালী ব্র্যাডিরাইজোবিয়াম জীবাণুসার উদ্ভাবন করা হয়েছে। চাষীরা এই জীবাণুসার ব্যবহার করে ৭৫-১৫০% বেশি ফলন পেতে পারেন।  

৭. মাষকলাই এর জন্য জীবাণু সার বিনা বিজি-১

মাষকলাই চাষের জন্য এই জীবাণুসার তৈরি করা হয়েছে এবং এটি মাষকলাইয়ের ফলন ২০-৩০% বৃদ্ধি করতে পারে।

৮. ধৈঞ্চার জন্য জীবাণু সার বিনা ডিসি-৯

এই জীবাণুসার তৈরি করা হয়েছে ধৈঞ্চা চাষের জন্য। এটি ব্যবহারের ফলে ধৈঞ্চার বীজের ফলন ২৫-৫০% বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। জীবাণুসার ব্যবহারে ধৈঞ্চার মান এবং জমির উর্বরতাও বৃদ্ধি পায়।

৯. ফেলনের জন্য জীবাণু সার বিনা এফআর

এই জীবাণু সার ফেলন চাষের জন্য ব্যবহার করা হয়। এতে ফেলনের ১৫-২৫% দানা এবং ১৪-২৪% সবজির (সবুজ ফল) ফলন বৃদ্ধি পায়।

রাইজোবিয়াম জীবাণুসার প্রয়োগ মাত্রাঃ

এ সারের পরিমাণ বিভিন্ন শস্যের জন্য বিভিন্ন রকম। মসুর, মুগ, মাষকলাই, ধৈঞ্চা ইত্যাদি ছোট আকারের বীজে প্রতি কেজিতে ৫০ গ্রাম এবং ছোলা, মটর, সয়াবিন, চীনাবাদাম ইত্যাদি বড় আকারের বীজে প্রতি কেজিতে ৩০ গ্রাম জীবাণুসার নিয়ম অনুযায়ী মিশিয়ে বপন করতে হয়।


Share with :

Facebook Facebook