|
জাতীয় কৃষি গবেষণা সিস্টেমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফসলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উচ্চ ফলনশীল জাত এবং নাইট্রোজেন সারের বিকল্প হিসেবে জীবাণুসার উদ্ভাবন ও বিস্তার করে ইতোমধ্যেই সমগ্র দেশে এক অনন্য মর্যাদার আসনে অভিষিক্ত। বাংলাদেশের ‘‘কৃষকের মুখে ফসলের হাসি’’ ভরিয়ে দেবার স্বপ্ন ধারণ করে এদেশের কৃষি গবেষণায় পরমাণু শক্তির শামিতপূর্ণ ব্যবহার দ্বারা বিনা এই সাফল্য অর্জন করেছে। বিনা আজ এভাবে জাতির গর্বিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত, সুগভীর প্রত্যয় ও ঐকামিতকতা নিয়ে এর বিজ্ঞানীবৃন্দ সর্বাধিক উপযোগী ও টেকসই এমন সব প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও বিস্তারে সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত, যা শুধু উচ্চ উৎপাদনশীল ও লাভজনকই নয়, বরং পরিবেশ-বান্ধব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার গুণসম্পন্নও বটে। বাংলাদেশের দারিদ্র্য ও অপুষ্টি নিরসনে এবং খাদ্য নিরাপত্তার লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক শক্তি হিসেবে বিনা এভাবে তার সীমিত সাধ্য নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
একটি রেডিও-ট্রেসার ল্যাবের ছোট পরিসরে ১৯৬১ সালে যাত্রা শুরু করে বিনা’কে তার বর্তমান বিকাশের স্তরে উপনীত হতে পেরিয়ে আসতে হয়েছে দীর্ঘ ৫০টি বছর। বিনা আজ প্রয়োজনীয় ল্যাব ও পরীক্ষণ খামারে সমৃদ্ধ, দেশের বিভিন্ন কৃষি পরিবেশগত অঞ্চলে রয়েছে এর বেশ কয়েকটি উপকেন্দ্র এবং সংযুক্ত খামার। এছাড়া, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিয়ে বিনা’র তত্ত্বাবধানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিতভাবে মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়ে থাকে। পরমাণু শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিনা এযাবৎ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ ফসলের মোট ৫৭টি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন ও বিস্তার করতে পেরেছে এবং এভাবে বাংলাদেশে কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে অবদান রেখে চলেছে। এ ছাড়াও, বিনা সাফল্যের সাথে উদ্ভাবন করেছে শিম, ডাল ও তেল জাতীয় ৮টি ফসলের জন্য জীবাণুসার, যা মাটির গুণাগুণ রক্ষাসহ ডাল ও তেলজাতীয় ফসলের ফলন বৃদ্ধির জন্য নাইট্রোজেন সারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পরিবেশ-বান্ধব ও দামে সস্তা এই জীবাণুসারগুলি ডাল ও তেলজাতীয় ফসলের ফলন শতকরা ২০ থেকে ১৫০ ভাগ পর্যমত বৃদ্ধি করে। এর পাশাপাশি, পোকামাকড় দমন, মাটি ও পানি ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন ফসলের পুষ্টি চাহিদা নিরূপণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক সম্পদের অবক্ষয় রোধকল্পে জৈববস্ত্ত ও কর্তনোত্তর ফসলের অবশিষ্টাংশ ব্যবহার বিষয়ে পরমাণু প্রযুক্তি ও উন্নততর কলাকৌশল সাফল্যের সাথে প্রয়োগ করা হচ্ছে এখানে। বিনা’য় এযাবৎ এ ধরনের ২৬টি নন-কমোডিটি প্রযুক্তি বা কলাকৌশল উদ্ভাবিত হয়েছে, যার অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
|
|